• সমগ্র বাংলা

আশুগঞ্জে বিএডিসির বাঁধ ভেঙ্গে বাড়িসহ শতাধিক ফসলী জমি পানিতে তলিয়ে গেছে

  • সমগ্র বাংলা
  • ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ১৮:৪৭:৪২

ছবিঃ সিএনআই

হাসান জাবেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার সোহাগপুর গ্রামের খালের উপর নির্মিত ক্রসবাঁধটি ভেঙে একটি ভিটে বাড়িসহ প্রায় দুই শতাধিক বিঘা রোপা ইরি ধানের জমি তলিয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে ফলন হওয়া সরিষা ক্ষেত। এছাড়া অনেক পুকুর-জলাশয়ে চাষ করা মাছ পানির তোড়ে ভেসে গেছে। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ঘেঁষা সোহাগপুর এলাকার ক্রসবাঁধটি ভেঙে যায়।

আশুগঞ্জ পুরাতন রেলগেট এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) পলাশ অ্যাগ্রো ইরিগেশন (স্থানীয়ভাবে সবুজ প্রকল্প নামে পরিচিত) সেচ প্রকল্পের কুলিং রিজার্ভার পুকুরটি ভরাটের ফলে আয়তন কমে যাওয়া ও মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজে সেচ খাল-ড্রেন ভরাট ও ভেঙে  ফেলার কারনে খাল ছোট হয়ে যাওয়ায় পানির চাপে এমনটি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষক ও সংশ্নিষ্টরা।

সেচ প্রকল্পের প্রধান সুইচ বন্ধ করে খালে পানির প্রবাহ কমিয়ে এটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ করে সোহাগপুর এলাকায় খালের উত্তর পাশের একটি অংশ ভেঙ্গে গিয়ে তীব্র স্রোতে পানি ফসলের মাঠে ঢুকতে শুরু করে। এসময় ড্রেনের পাশের জনৈক জলফু মেম্বারের একটি বালির ভিটি ও গাছপালা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

এতে কমপক্ষে দু্ই শতাধিক বিঘা রোপা ইরি ধান ও পাকা সরিষা ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। পানির স্রোতের সঙ্গে ব্যাপকভাবে বালি যাওয়ায় জমির সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানায়, সেচ প্রকল্পের আশুগঞ্জ উপজেলার রেলগেইট এলাকায় বিদ্যুৎ বিভাগের পুকুরটি ছিল প্রধান রিজার্ভার। গত বছর এ পুকুরটির প্রায় ৭৫ ভাগ ভরাট করে ফেলে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ। ফলে রিজার্ভার পুকুরের আয়তন কমে যাওয়ায় পানির ধারণ ক্ষমতা কমে যায়।

এদিকে আশুগঞ্জ নদী বন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত মহাসড়ক ফোর লেনে উন্নীতকরণের কাজে মাহাসড়কের পাশে প্রায় ১১ কিলোমিটার ড্রেন-খাল ভরাট ও ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। বিগত অন্যান্য বছর প্রায় ৩০/৪০ ফুট প্রশস্ত ড্রেন-খাল দিয়ে সেচের পানি প্রবাহিত হলেও বর্তমানে তা কমে গিয়ে কোন কোন স্থানে ৪/৫ফুট নালায় পরিনত হয়েছে। অপ্রসস্ত ড্রেন-নালা বালুতে ভরাট হয়ে এর গভীরতা কমে যাওয়ায় পানির চাপে তা ভেঙ্গে যায়।

চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে প্রকল্পের আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর, আশুগঞ্জ,সরাইল ও নবীনগর উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান ও প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যে গত মাসে (১৫/০১/২০২১) সেচের পানি অবমুক্ত করে। পানি অবমুক্ত করার সময় ড্রেন দিয়ে পযাপ্ত পানি প্রবাহ না হওয়া, বালিতে ড্রেন ভরাট হয়ে সেচকাজ ব্যাহত হওয়ার আশংকার কথা জানিয়েছিল স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্টরা। অবশেষে কৃষকের আশংকা-ই সত্য হল।

পানিতে তলিয়ে গিয়ে ফসল নষ্ট হওয়া কৃষকের মধ্যে সোহাগপুর গ্রামের আরমান সিকদার জানান, ক্রসবাঁধ ভেঙ্গে তার মোট ১৪ বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে লাগানো ইরি ধান (রোপনকৃত) ও সরিষা। নাছির মিয়া নামে আরেক কৃষক বলেন, তার প্রায় ৬ বিঘা সরিষা ক্ষেত তলিয়ে
গেছে। এদিকে জলফু মেম্বারের বাড়ির অর্ধেক পানিতে ভেসে গেছে। ক্ষতি হয়েছে মাসুদ মিয়া নামে একজনের চাতালকলের অংশ বিশেষ। ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, পানির চাপে বাঁধ ভেঙ্গেছে। খাল ছোট হয়ে যাওয়ায় এমনটি হয়েছে বলেও জানান তারা।

এব্যাপারে বিএডিসি‘র উপ-সহকারি প্রকৌশলী (ক্ষুদ্রসেচ) মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। স্থানীয় অনেক কৃষকের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।

আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরবিন্দ বিশ্বাস বলেন, কৃষকদের বড় ধরণের ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসকসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে তিনি জানান।

আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটের অভ্যন্তরে সেচ প্রকল্পের প্রধান সুইচ গেটে পানি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পানি কমে গেলে ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামত করা হবে।

মন্তব্য ( ০)





  • company_logo