১৮, ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, সোমবার | | ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪০

৯১৯ কোটি টাকা পাচার করেছেন জাজের আজিজ

জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজ ও তার ভাই এম.এ. কাদের ৯১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচারের তথ্য পেয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এ অভিযোগে ইতোমধ্যে আবদুল আজিজের ভাই ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম.এ. কাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (৩০ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে তিনটায় গ্রেফতার করা হয়েছে। আর একই অভিযোগে জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজকে খুঁজছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। শুল্ক গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, এমএ আজিজের ভাই এম. এ. কাদেরকে গ্রেফতার করেছেন। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর চকবাজার মডেল থানায় পৃথক পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে (মামলা নম্বর ৫৪, ৫৫ ও ৫৬)। বুধবার জরুরি সংবাদ সংবাদ সম্মেলন করে এম.এ. কাদেরকে গ্রেফতার ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজকে খোঁজার বিষয়টি তুলে ধরেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। তিনি জানান, ক্রিসেন্ট গ্রুপের তিন প্রতিষ্ঠান ক্রিসেন্ট লেদার ৪২২ কোটি ৪৬ লাখ, রিমেক্স ফুটওয়্যার ৪৮১ কোটি ২৬ লাখ ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ ১৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ৯১৯ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) অনুযায়ী রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস লিটুল জাহান (মিরা) এবং অন্য দুটি প্রতিষ্ঠান ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম.এ. কাদের এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস সুলতানা বেগম (মনি) ও জনতা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ১৩ জন কর্মকর্তাকে আসামি করে রাজধানীর চকবাজার মডেল থানায় পৃথক পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর জানিয়েছে, ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড, রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লিমিটেড মোট ৯১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেছে, যা তাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। শুল্ক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আসামিদের মধ্যে আছেন রিমেক্স ফুটওয়্যারের চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিটুল জাহান মিরা, ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজের চেয়ারম্যান এমএ কাদের এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা বেগম মনি। প্রসঙ্গত, দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে জাজ মাল্টিমিডিয়ার আবির্ভাব ২০১১ সালে। এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে থাকে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি।